কোয়েম্বেডু বাস টারমিনাস বা CMBT চেন্নাই এর সব থেকে বড় বাসস্ট্যান্ড । এখানথেকেই দূরপাল্লার সব বাস ছারে । প্রথম দিন গিয়েছিলাম খোজখবর করতে । কিন্তু সিটিবাস আমাদের নামিয়ে দিল একটি সাধারন বাসস্ট্যান্ডে ! সবই প্রায় লোকাল বাস । ভাবলাম বোধহয় ভুল স্থানে এসেছি । তবে রাস্তার বিপরীতে কত গুলি টুরিস্টবাস সাফাই পরিষ্কার হচ্ছে, যাই সেখানেই জিজ্ঞাসা করি । দেখি একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির অফিস, জোরে মাইকে গান হচ্ছে , সামনে বাস দাঁড়ানো, একজন পিঠে ব্যাগ নিয়ে বাসে উঠতে যাচ্ছে আর এক সুন্দরী নেচে নেচে ছেলেটির গাঁয়ে ঢলে পড়ছে ! আরে এতো, লাইট অ্যাকশান ক্যামেরা ! ওহ সিনেমার সুটিং চলছে, তারমানে ওই অফিসও নকল । সুতরাং নকল হিতে সাবধান । শেষে ট্রাফিক পুলিশের কাছ থেকে সঠিক উত্তর পাওয়া গেল । আমরা যে সাদামাটা বাসস্ট্যান্ডে নেমেছিলাম তারই পিছনে আছে দূর পাল্লার বাস টারমিনাস । সুতরাং আবার হাটা । বিশাল বড় এবং সুসজ্জিত বাস টারমিনাস । অনেকটা রিসর্টের মতো । চার দিকে বিভিন্ন খাবারের স্টল, বইয়ের দোকান, তামিলনাড়ু পর্যটন বিভাগের অফিস, ঘরের মাঝে বসার ব্যাবস্থা , উপরের গম্বুজের উচ্চতা প্রায় ১৫০ ফিট্ হবে । এর পেছন দিকটার এক দিকে সরকারি অপর দিকে বেসরকারি বাস সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে । এক কথায় অসাধারন । পরদিন বিকেল পাঁচটার সময় কোয়েম্বেডু বাস টারমিনাসে গেলাম । পরের বাস ছারবে আরো এক ঘণ্টা পর । একটু টিফিন করে বাসে উঠে বসলাম । প্রতি জন কন্ডাকটরের গলায় একটি করে সিটি ব্যাঙ্কের যন্ত্র রয়েছে টাকা আপনি ক্যাশ আথবা কার্ডের মাধ্যমে দিতে পারেন । সাথে সাথে প্রিন্টেড টিকিট পেয়ে যাবেন । জিজ্ঞাসা করাতে কন্ডাক্টর বললেন পন্ডি বা পন্ডিচেরী পৌছাতে প্রায় ঘণ্টা চারেক লাগবে । আমরা মনে মনে প্রমাদ গুনলাম ! সেখানে নামতে নামতে ঘড়ির কাটায় বাজবে রাত সারে ১০ টা- ১১ টা ! অর্থাৎ নেমে তারাতাড়ি হোটেলে যেতেনা পারলে সারা রাত খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে । সুতরাং নতুন করে আবার উৎকণ্ঠা উদ্দীপনা রোমাঞ্চ আরকি চাই ! আমরা চলেছি চেন্নাই হাইওয়ে ধরে । পাশাপাশি তিনটি করে মোট ছয় লেনের রাস্তা । বেশি বলা হবেনা যে এই পথে ভাঙা টেম্পোও নতুন ফেরারির মতো মসৃণ গতিতে ছুটতে পারে । আমরা বসেছি সবার প্রথমে ইঞ্জনের পাশে । অনেকটা NEED FOR SPEED খেলার মতো আমরা ডানে বায়ে বাকিদের টপকে প্রায় রাত ৯ টার নাগাদ একটি বাস স্ট্যান্ডে এসে পৌঁছলাম । কমল গেল সাইডে আর আমি গেলাম দোকানে খাবার কিনতে । এখানেও আলুবন্ডা বাঃ আলুর বড়া, কলা ভুজিয়া ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে । জল বিস্কুট কিচ্ছু খাবার কিনে এসে দেখি সব বাসই দেখতে একই রকম । নাম ঠিকানা সবই তামিলে ! এখন উপায় ? কপাল গুনে বাসের সংখ্যা চার পাচটি তাই উবু-দশ-বিশ করে বাসের ভিতরে গেলাম । তৃতীয় বারে সাফল্য আসলো । দেখি কমল ততক্ষণে জল আর লেমন রাইস কিনে এনেছে । কখন কোথায় পৌঁছাব ঠিক নেই তাই হাতের কাজ এখানেই সারা যাক । খাওয়ার তালে আমিও বাসের নম্বর না দেখার কথা চেপে গেলাম । একোনও বিরিয়ানী বা পোলাও নয়, ফয়েল প্যাকে সাধারন লেবু ভাতবাপরে কি টক্তবে আলুর বড়া দিয়ে খারাপ লাগছেনা । রাত প্রায় ১০টা হাল্কা ঘুম পাচ্ছে হঠাৎ বাসের টারনিং এ ঘুম ভেঙ্গে গেল ! বাস চলেছে অন্ধকার গ্রামের ভাঙা রাস্তা দিয়ে । এটাই কি পন্ডিচেরী ? না বাস আবার উঠল বড় রাস্তায় এবং খানিক পরেই বিশাল তোরণ WEL COME TO PONDICHERRY, না এখনো সব বন্ধ হয়ে যায়নি । আরে এতো একটা শহর । বাস থেকে নেমে অটো নিয়ে গেলাম পার্ক এলাকার একটি হোটেলে নাম ফ্রেঞ্চলজ । 
পন্ডিচেরী ছোট শহর । পায়ে হেটেই সব ঘোরা যায় । একসময় এটি ছিল ফরাসীদের উপনিবেশ । পরদিন সকালে গেলাম গান্ধীবিচে । সামান্য পায়ে হাটা পথ শহরের সব থেকে শান্ত ও সুন্দর জায়গা । চওড়া রাস্তা, তার পাশে সারি সারি ফরাসী আমলের বাড়িঘর আর অপর পাশটি পুরো সমুদ্র । তবে বেলাভূমি বা সৈকত নেই । আছে শরটিকে রক্ষা করার জন্য লক্ষ লক্ষ কালো ব্যসল্ট এর চাই । নিচে নামতে পারেন তবে সাবধানে । এখানেই আছে পুরনো চার্চ, লাইটহাউস, জাহাজ ঘাটা, বি আর আম্বেতকরের স্মিতি
বিজড়িত মিউজিয়াম, এয়ারপোর্ট, ফ্রেঞ্চ অ্যাম্বাসি, ঋষি অরবিন্দের আশ্রম । প্রতিটি রাস্তা সমকোণে অবস্থান করছে তাই পথ হারাবার ভয় নেই । ফরাসী ভাষায় র‍্যু মানে রাস্তা । যেমন মুলা রোজ র‍্যু । এই আশ্রম এলাকায় ভাতের হোটেল নেই বললেই চলে । বাঙালি হোটেলে খাওয়ার থেকে তামিল খাবার খাওয়া অনেক ভালো । এই গরমে তা বেশী উপাদেয় । ফেরার পথে একটি মন্দিরেও গেলাম । সবাই ফুল মালা উপাচার নিয়ে ভিতরে যাচ্ছে । আমরাও গেলাম তবে খালি হাতে । আমাদের লক্ষ্য এখানে নয় ।
দুপুরে স্নানের পর গেলাম ঋষি অরবিন্দের আশ্রমে । প্রায় ছোটখাটো একটা জমিদার বাড়ি । ফরাসী গঠন শৈলীতে তৈরি দুইতলা বাড়ি সামনে ঝুল বারান্দা দিনের তাপমাত্রা প্রায় ৩২ ডিগ্রী তবে সমুদ্র কাছে বলে বাতাস আছে, তাই গাঁয়ে লাগেনা । সাইলেন্স জোন তাই বেশি কথা বলা বারণ । ঢুকতেই একজন কালো চশমা পরা বয়স্ক লোক মুখে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন বেশি নয়, কথা বলা একদমই বারণঢুকে বা দিকে সমাধি স্থল । আবার নতুন ইশারা এল একটু বোস এখানে । চিন জাপান আমেরিকা ইংল্যান্ড ফ্রান্স প্রায় সব দেশের মানুষ জনই বসে আছে এখানে । কিন্তু আমিতো এসেছি এখানে ঘুরতে দেখতে । বলতে লজ্জা নেই প্রায় মিনিট ছয়েকের মধ্যে উঠে পরলাম । মূল বাড়িতে প্রবেশ করলাম । সামনেটা লাইব্রেরী, ভিতরটা বই বিক্রির দোকান আরকি । ভারতের প্রায় সব আঞ্চলিক ভাষাতেই অরবিন্দের লেখা অনুবাদ করা আছে । তাক্ থেকে পছন্দের বই নিয়ে লাইনে দাঁড়ান, ক্যাশে দুইজন মহিলা আছেন । অপর দুইজন বয়স্ক মানুষ তাদের বই প্যাকেট করে সাহায্য করছেন । একজন বয়স্কা মহিলাকে দেখলাম প্রায় হাজার তিনেক টাকার বই কিনতে । হাসি হাসি মুখে ক্যাশ কাউন্টারে তার বই প্যাকেট করা হচ্ছে । সঙ্গে পেলেন অরবিন্দের বাণীর গোটা ছয়েক স্টিকার বিনামূল্যে এছাড়া একটি স্বারক ক্যরিব্যাগপরের জনের বাজেট ২৩০ টাকা ! তিনি পেলেন শুধু কাগজের প্যাকেট । দেখে মনে হল ক্রেতা ও ওই মহিলা দুজনই বাঙালি । সামনের জন আবার শোধালেন দিদি এক-আধটা স্টিকার কি দেওয়া যায়না ? দিদি তখন ইংলিশে ভাইকে হাইকোর্টের নিয়ম বাতলাচ্ছেন । দেখে খারাপ লাগলো ! আসলে ঋষির কি দোষ ? দোষ তাঁদের যারা তাঁকে নিয়ে এভাবে বিপণন করছেন । কমলই আমাদের দুজনের বইয়ের দাম মিটিয়ে দিয়ে বেরিয়ে এল । আর কিছু দেখার আছে বলে মনে হল না, তাই বাইরে বেরিয়ে এলাম । সামনেই রাস্তার পাশে রয়েছে একটি ফ্রেঞ্চ রেস্টুরেন্ট । একটা লার্জ সাইজের খাটি মোৎজেরেলা চিজে তৈরি পিৎজা ঠাণ্ডা কোকোকোলা দিয়ে খাবার পর আমাদের গরম কমলো ।
 

বিকালে আবার গেলাম সমুদ্রের তীরে । পাঁচটার পর এদিকে গাড়ি চলেনা । সমুদ্রের ধারে মেলা বসেছে, ঠেলা গাড়িতে হরেক খাবারের দোকান । চা কফি ফুচকা চাট্ পাস্তা কি নেই ? তবে দোকানিরা গরীব হওয়ায় ইংরাজী বা হিন্দী কোনটাই ভালো বুঝতে পারেনা । আমি ভারতের প্রায় সবভাষা জানি ! আমার ভাষার দৌড় কত ? কেন, সেই ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক বা ডিডি ১ এর মিলে সুর মেরা তুমহারা গানের প্রতিটি লাইনের মতো । মানে ? ওই একই কথা সামান্য কয়েকটি প্রাদেশিক ভাষায় বলা আরকি ! যেমন অ্যাঁয় সুরয় তারো মারো বনেয়া পরঃ সুর নেরিহারোবা তমা মোরো সুরের মিলনে সৃষ্টি হোক চালঃ ঐকতানঃ কিংবা “... গীত অধরঃ মধুর তরানঃ মিলেকদে ইত্যাদি । শুনেই বোঝা যায় কাকের গলায় কোকিলের ডাক এরই উপর ভরসা করে আমরা এসেছি ভারতের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে চাক্ষুস করতে ।


পন্ডিচেরিতে বাইক ভাঁড়া নিয়ে ঘুড়ে বেড়ানো যায় । স্কুটি বাইক মাত্র ৩০০ টাকা সারাদিন, তেল নিজের । আজ আমাদের গন্তব্য অরো বীচ্ ও মাতৃ মন্দির । শহর থেকে মাত্র ১০-১৫ কিমি । বাইক ভাঁড়া নেওয়ার সময়ই তারা একটি ম্যাপ দিয়ে দেবে । চলেছি বাইক নিয়ে হাইওয়ে বরাবর । পিছনে বসে আছে কমল । পথের ধারে সারি সারি হেলানো নারকেল গাছ আর টালির বাকা চারচালা বাড়ি গলি এক কথার অনবদ্য । অরো বীচ্ শহর থেকে দূরে গ্রাম এলাকায় । এতো ফাকা সমুদ্র সৈকত খুবকম দেখা যায় । আশেপাশে দোকান পাট বলতে কিছুই নেই । কিছু মৎস্য জীবিদের নৌকা পড়ে আছে । হয়তো সকালের ধরা মাছ বিক্রি করে তাঁরা বাড়ি ফিরে গেছে । পন্ডিচেরী ও তার আশপাশ অবসর জীবন কাটানোর পক্ষে আদর্শ । কোন কোলাহল চিৎকার কিচ্ছু নেই, শুধু শান্তি আর শান্তি ! একটি নারকেল গাছের ছায়ার বসে পড়ে ফেলা যায় আস্ত একটা উপন্যাস । বসে থাকা যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা । তবে পশিমের জল দেরিতে হলেও পূর্ব উপকুলেও প্রবেশ করেছে । শহর থেকে দূরে এদিকের রিসর্ট গুলির রমরমা অনেকবেশী । 













এবার চলেছি আমাদের পন্ডিচেরী যাত্রার শেষ স্টপেজে । মাতৃ মন্দির । হাইওয়ে ধরে আরো কিছুটা উত্তরে গিয়ে বা দিকে ছোট পাকা রাস্তা । পিচের রাস্তা একে বেকে চলে গেছে, দুই পাশে ম্যানগ্রভ জাতিয় বন । ঠিক একই প্রাকার গাছের জঙ্গল চিল্কাতে যাওয়ার সময়ও চোখে পড়ে, তবে সেগুলি ছিল কাজু বাদামের গাছ, জানিনা এগুলি কি ? অবশেষে পৌঁছালাম । সামনেই পার্কিং এর ব্যাবস্থা । বাইক ছোট গাড়ি বাস সবার আলাদা আলাদা ।  কিছুটা দূর হাটার পথ । মনে হচ্ছে কোন বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভিতর দিয়ে হাটছি । এই লাল রুক্ষ মাটিতেও কত সুন্দর লতা গুল্ম বিরুৎ স্বমহিমায় মাথা নেড়ে সকলকে স্বগত জানাচ্ছে । হাতের ডান দিকে একটি সংগ্রহশালা ।
প্রসঙ্গত এটা বলে রাখাই ভালো যে মাতৃ মন্দির বা অরভীল কোন চিরাচরিত ভারতীয় মন্দির নয় । ঋষি অরবিন্দের শিষ্যা Mirra Alfassa (Paris 21.2.1878 - Pondicherry 17.11.73) যাকে আমরা শ্রীমা বলেই বেশি চিনি এটা তারই চিন্তা প্রসূত । ১৯৬৫ সালের জুনের দিকে তিনি এমন এক শহর তৈরির ইচ্ছা প্রকাশ করেন যেখানে, বিশ্ব নাগরিক হিসাবে মানুষ শান্তিতে বাস করবে তাঁর পারস্পরিক সহযোগিতা ও মেল বন্ধনের মাধ্যমে, নিজের সকল প্রকার ধর্মমত, রাজনীতি ও জাতিয়তাবাদের উর্দ্ধে উঠে । মানব জাতির অখন্ডতা অনুভব করানই অরভীলের উদ্দেশ্য ।
       
Universal town where men and women of all countries are able to live in peace and progressive harmony, above all creeds, all politics and all nationalities.  The purpose of Auroville is to realise human unity.

এই শহর তৈরি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি । ১৯৭০ সালে ফ্রেঞ্চ স্থাপত্যবীদ Roger Ager মাতৃ মন্দির তৈরির কাজ শুরু করেন । বারোটি বাগান সহ এই বিশ্ব-শহরের মাঝে আছে একটি উপাসনা বা ধ্যান কক্ষ । ১৯৭১ সালে শ্রীমা নতুন একটি নকশা অনুমোদন করেন । এতে শহরের চারধারে উপবৃত্তাকার জলাশয়ের কথা বলা হয় । এই জলাশয় শ্রীমা তাঁর জীবন কালে দেখে যেতে পারেননি । ১৯৬৬ সাল থেকে ভারত সরকার ও বিগত চল্লিশ বছর ধরে  UNESCO নানা ভাবে এই প্রোয়গমূলক শহর টিকে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে ।  

আরো তথ্য জানতে দেখুনঃ  http://en.wikipedia.org/wiki/Auroville


সংগ্রহশালাটি ভালোই লাগল । বিভিন্ন প্রকার চার্ট মডেল ছবির মাধ্যমে এর ইতিহাসকে সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে । একজন এসে জিজ্ঞাসা করলেন আমরা অরোভীল সম্পর্কিত বায়োস্কোপ দেখতে চাই কিনা ? একটু পরেই শো শুরু হবে । মন সায় দিলেও এই গরমে শরীর সায় দিলনা । বিনীত ভাবে বললাম মাফ করবেন পরে ইউটিউবে দেখে নেব, তিনি হেসে বললেন যান তবে মাতৃ মন্দির দেখে আসুন । মানুষের শাপে বর হয় । আমাদের বেলা হল উলটো ! বিনে পয়সায় এসি থিয়েটারে সিনেমা না দেখে, আমরা চলেছি ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রার মধ্যে হেটে অরভীল এর কেন্দ্রে পৌছতে । চিনা জাপানি যাকেই পাই এক প্রশ্ন আর কত দূর ? Not too far. 10 minute to walk. কিজানি আজ কিলোমিটার মাইল এরা হরতাল ডেকেছে কিনা ! সবাই দূরত্ব সময়ে মাপছে ? একটু পরে ব্যপারটা পরিষ্কার হল । আসলে মাইলস্টোন দেখে অভ্যাস তো ! অরভীলের পথে পথে রয়েছে টাইমস্টোন । হাটা পথে বিভিন্ন গন্তব্যের সময় তালিকা ! যাইহোক অবশেষে পৌঁছলাম সোনার পাতে মোড়া গোলাকৃতির অডিটোরিয়াম বা মাতৃমন্দিরের সামনে । ভিতরে প্রবেশ নিষেধ । তাই দূর থেকে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটালাম । এখানে একজন সিকুরিটি গার্ড কাম গাইড রয়েছেন । তিনি আঙ্গুল দিয়ে তারা দেখানোর মতো মাতৃমন্দিরের বিভিন্ন অংশের কার্যকারিতা ব্যাখ্যা করেন । ফেরার সময় আর হাটতে হল না । দর্শনার্থীদের ফেরত নিয়ে যাবার ফ্রি বাস সার্ভিস আছে । বাঁচাগেল নইলে সোনারডিম দেখারপর এতদূর হেটে ফিরলে মনটা সারাদিন খচখচ করত ।







অবশেষে ফেরার পালা । হোটেলে চেক্ আউট করে বেরিয়ে পড়লাম । একটি হোটেলে খাওয়া সেরে উঠলাম বাসে । এসির হাওয়ায় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চলেছি উত্তরদিকে করমণ্ডল উপকূল ধরে, গন্তব্য চেন্নাই । 




মূল ভ্রমণ কাহিনী  
বিষদে পড়ার জন্য ক্লিক করুন

2 comments :

  1. Could have been better by less criticize about the Asram.....

    ReplyDelete
  2. এখানে আরেক জন লেখকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলাম -----

    ---- এইবার অরবিন্দ আশ্রম। আশ্রমটা মনে হল বাঙালিদের দ্বারাই পরিচালিত। প্রতি পাঁচ হাত অন্তর একজন করে লোক দাঁড়িয়ে হিন্দি ইংরেজিতে অনর্গল বলে যাচ্ছে, জুতো ঐ সাইডে খুলে আসুন। কথা বলবেন না। মোবাইল সুইচ অফ করে রাখুন। আমার এমনিতেই ভক্তিরসে অ্যালার্জি আছে, গদগদ ভক্তি দেখলেই কেমন যেন গা চিড়বিড় করে। তো, এসেছি দেখতে, বিনা বাক্যব্যয়ে জুতো খুলে ঢুকলাম। একটা বেদী করা, ওপরে চারপাশে বিস্তর ফুল চড়ানো, চারপাশে শোকাকুল মুখে একগাদা ভক্ত বসে, যেন এইমাত্র তাদের সবার বাবা মারা গেছে। ক্ষী ঝাম! একদিকে বিক্রিবাটার জায়গা। বাংলা তেলুগু তামিল মালয়ালম হিন্দি ইংরেজি বিভিন্ন ভাষায় লেখা ধম্মের বই। অরবিন্দের বাণী। শ্রীমা-র বাণী। এইসব। মানে, সব মিলিয়ে বেশ একটা ভাবগম্ভীর ব্যবসায়ী পরিবেশ। বেরিয়ে এসে জুতো পরে নিশ্বাস নিলাম। বুক ভরে।
    পরের গন্তব্য অরোভিলা। অটো ধরলাম। সে পন্ডিচেরি শহর থেকে বহুদূর। অটো যাওয়া আসায় পুরো সাড়ে তিনশো টাকা নিল। সে-ও গেলাম। আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না কী জন্য গেলাম। অরোভিলা আবার একখানা ভোজনালয় আর ব্যবসার জায়গা। চড়া দামে ভালো ভালো মোমবাতি, পটারি, ইত্যাদি বিক্কিরি হচ্ছে। সেখান থেকে এক কিলোমিটার নেচার ট্রেকিং করে মাতৃমন্দির। তার জন্য নাকি টিকিট কাটতে হয়। সে টিকিট কাউন্টারও বন্ধ। ধুত্তেরি, বলে এমনিই চলতে শুরু করে দিলাম লোকজনের সঙ্গে। যেখানে আটকাবে, সেখান থেকে ফিরে আসব। তো, ঐ এক কিমি রাস্তা বেশ ভালো। গাছপালায় ছাওয়া, কেয়ারি করে ছাঁটা বাগানের মধ্যে দিয়ে হাঁটা। হেঁটে দূর থেকে দেখি, মাইরি বলছি, আপ্রাণ চেষ্টা করেও ঠিক প্রশংসাবাক্য আনতে পারছি না, একটা আখাম্বা বিশাল বড় সোনালী রঙের গোলা। অত্যন্ত ভুলভাল দেখতে। দেখে প্রথমেই তুলনা মনে পড়ল তিনমূর্তি রোডে দিল্লি পুলিশ মেমোরিয়াল। একটা টাওয়ারের ওপর ঠিক এই রকম দেখতে একটা বল। যা দৃষ্টিকটূতার অভিযোগে এনডিএমসি থেকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে দু বছর আগে। ----

    সুত্রঃ http://www.guruchandali.com/amaderkatha/guruchandali.Controller?portletId=8&porletPage=2&contentType=content&uri=content1338215469879&contentPageNum=18

    ReplyDelete